গ্যালাক্সি এস১০-এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সমাধান দিলো স্যাম

প্রযুক্তি সাইট ভার্জের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এখন শুধুমাত্র দক্ষিণ কোরিয়াতেই এই আপডেটটি উন্মুক্ত করেছে স্যামসাং। এই সমস্যা টি  সমাধান শীঘ্রই অন্যান্য দেশেও আপডেট এর মাধ্যমে  উন্মুক্ত করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিলো অননুমোদিত স্ক্রিন প্রটেক্টরের কারণে এমনটা হতে পারে জানিয়েছে স্যামসাং।

স্যামসাংয়ের অফিশিয়াল সাইটে বলা হয়েছে, “অননুমোদিত, দাগ পড়া বা নোংরা স্ক্রিন প্রোটেক্টর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের সঠিক কাজ না করার কারণ হতে পারে।” তবে, “ত্রুটি” এবং “যে কাউকে ফোনে প্রবেশ করতে দেওয়ার” মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। এ কারণেই স্যামসাং দ্রুত আপডেট উন্মুক্ত করেছে যার মাধ্যমে সমাধান আসবে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আগে এই ত্রুটির জন্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিলো যে, আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ভুলবশত “নির্দিষ্ট কিছু সিলিকন স্ক্রিন প্রটেক্টরের ওপর থাকা তৃমাত্রিক প্যাটার্নকে গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ ধরে নিচ্ছিলো।”

এই সমস্যাটির সাময়িক সমাধান পেতে গ্রাহককে ত্রুটিপূর্ণ স্ক্রিন প্রটেক্টর তুলে নতুনকরে আঙ্গুলের ছাপ নিবন্ধন বা প্যাচ উন্মুক্ত না করা পর্যন্ত ভিন্ন লক ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে স্যামসাং।

মধ্যম বাজেটে প্রিমিয়াম ডিজাইন নিয়ে এলো নকিয়া ৭.২ এবং ৬.২

এইচএমডি গ্লোবালের ডেভেলপ করা নতুন নকিয়া স্মার্টফোনের নামকরণের ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। অনেকের কাছেই এটা বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। মূলত তারা এই পর্যন্ত তাদের লাইনআপের সবগুলো ফোনেরই প্রতি বছর একটু একটু করে আপগ্রেড নিয়ে আসছে। যেমন তাদের সদ্য রিলিজ হওয়া নকিয়া ৭.২ এনং নকিয়া ৬.২। এগুলো মূলত তাদের ৭ ও ৬ সিরিজের তৃতীয় কিস্তি।


গত ৫ সেপ্টেম্বর জার্মানির বার্লিনে এইচএমডি আইএফএ সম্মেলনে তাদের বেশকিছু নতুন ফোন নিয়ে এসেছে। এদের মাঝে দুটো এন্ড্রয়েড ভিত্তিক স্মার্টফোন এবং অন্য তিনটি অনেকটা ক্লাসিক ফিচারফোনের কাতারে পড়ে। আর এই কারণে নকিয়া ৭.২ এবং ৬.২ নিয়ে সবার আগ্রহও বেশি। বরাবরের মতোই নকিয়া ৭.২ এবং ৬.২ তাদের মিড্রেঞ্জ ক্যাটেগরিতেই আছে। তবে মজার ব্যাপার হলো বিল্ড কুয়ালিটি ও ম্যাটারিয়ালের দিক থেকে ফোনগুলো অনেক প্রিমিয়াম। যদিও নকিয়ার সিম্পল ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে অনেকের অভিযোগ থাকতে পারে।

ফোনদুটোর মাঝে দাম ও স্পেসিফিকেশনের দিক থেকে বেশ পার্থক্য থাকলেও এমনিতে ডিজাইন এর দিক থেকে খুব বেশি পার্থক্য নেই। দুটি ফোনেই পিছনে ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ এবং সামনে ওয়াটারড্রপ নচযুক্ত সেলফি ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়েছে। তবে নকিয়া ৭.২ এর ক্যামেরা তুলনামূলক ভালো কারণ এতে ৪৮ মেগাপিক্সেল মেইন সেন্সর এবং কার্ল জাইস এর লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সাথে এর ক্যামেরা অ্যাপটিও কার্ল জাইস এর সাথে মিলে বিশেষভাবে মডিফাই করেছে এইচএমডি যেন গ্রাহকেরা এর ক্যামেরায় বেশ কিছু এক্সক্লুসিভ ফিচার পায়। চলুন ফোনদুটোর বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন দেখে আসি।


নকিয়া ৭.২ এর স্পেসিফিকেশনঃ

  • ডিসপ্লেঃ ৬.৩ ইঞ্চি, ফুল এইচডি প্লাস, আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে, এইচডিআর১০ সাপোর্ট, গরিলা গ্লাস ৫। 
  •  চিপসেটঃ কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬৬০ 
  •  র‍্যামঃ ৪/৬ জিবি স্টোরেজঃ ৬৪/১২৮ জিবি 
  •  ক্যামেরাঃ ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ, জাইস অপটিক্স 
  •  ৪৮ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি সেন্সর 
  • ৮ মেগাপিক্সেল আলট্রা ওয়াইড লেন্স 
  • ৫ মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সর 
  • ২০ মেগাপিক্সেল ওয়াটারড্রপ নচ সেলফি ক্যামেরা 
  • অন্যান্যঃ ইউএসবি টাইপ সি, রিয়ার মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট, হাইব্রিড ডুয়াল সিম। 
  •  ব্যাটারিঃ ৩৫০০ মিলিএম্প, ১০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং 
  •  ওএসঃ এন্ড্রয়েড ৯.০ পাই (এন্ড্রয়েড ওয়ান)


নকিয়া ৬.২ এর স্পেসিফিকেশনঃ

  • ডিসপ্লেঃ ৬.৩ ইঞ্চি, ফুল এইচডি প্লাস, আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে, এইচডিআর১০ সাপোর্ট, গরিলা গ্লাস ৫। 
  •  চিপসেটঃ কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬৩৬ 
  •  র‍্যামঃ ৩/৪ জিবি স্টোরেজঃ ৩২/৬৪/১২৮ জিবি 
  •  ক্যামেরাঃ ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ, জাইস অপটিক্স 
  •  ১৬ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি সেন্সর 
  • ৮ মেগাপিক্সেল আলট্রা ওয়াইড লেন্স 
  • ৫ মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সর 
  • ৮ মেগাপিক্সেল ওয়াটারড্রপ নচ সেলফি ক্যামেরা 
  • অন্যান্যঃ ইউএসবি টাইপ সি, রিয়ার মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট, হাইব্রিড ডুয়াল সিম। 
  •  ব্যাটারিঃ ৩৫০০ মিলিএম্প, ১০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং 
  •  ওএসঃ এন্ড্রয়েড ৯.০ পাই (এন্ড্রয়েড ওয়ান)

মুক্তি পেলো আইফোন ১১ সিরিজ

প্রযুক্তি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করুক আর না করুক, নতুন মুক্তি পাওয়া আইফোন নিয়ে সবারই সমান উন্মাদনা। অনেকদিন ধরেই আপনারা নতুন আইফোনের অনেক লিক হওয়া ছবি দেখে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত সকল লিককে সত্যি করে আজ এইমাত্রই মুক্তি পেলো অ্যাপলের নতুন তিন আইফোন। যদিও অ্যাপল ওয়াচ, আইপ্যাডসহ আরো বেশ কিছু প্রোডাক্ট আজ অ্যাপল ঘোষণা করেছে। কিন্তু তার পরেও সবার দৃষ্টি সেই আইফোনগুলোর দিকেই।

এবারের ইভেন্টে তারা তাদের তিনটি আইফোন ঘোষণা করেছে। এককটি হলো অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী আইফোন ১১ এবং অন্য দুটি হলো প্রিমিয়াম আইফোন ১১ প্রো ও আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স। ক্যামেরার সংখ্যা বাদে নতুন আইফোনগুলোতে তেমন কোন দৃশ্যগত পরিবর্তন আসে নি। এখনও তারা সেই নচ এর যুগেই পড়ে আছে। আর তার সাথে আগের মতোই গ্লাস স্যান্ডউইচ ডিজাইন। নতুন আইফোনে সুপার রেটিনা এক্সডিআর নামক নতুন ও উন্নত ডিসপ্লে টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে।



ফোন গুলোতে তাদের ফ্ল্যাগশিপ এ ১৩ বায়োনিক চিপ ব্যবহার করা হয়েছে যা অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির স্মার্টফোন সিপিইউ এবং জিপিইউ যুক্ত।
এবারে তারা আইফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপে গুরুত্ব দিয়েছে। আর তাই নতুন আইফোন গুলো আগেরবারের আইফোন থেকেও কয়েক ঘন্টা বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবে। সেই সাথে এবার তারা আইফোন ১১ প্রো এর প্যাকেটেই ১৮ ওয়াট ফাস্ট চার্জার দিয়ে দিচ্ছে। 

আইফোন ১১ মূলত আগেরবারের আইফোন টেন আর এর স্থান দখল করেছে। তবে এতে এবার দুটো ক্যামেরা থাকছে।
তবে সবগুলো ফোনেরই ক্যামেরার এরেঞ্জমেন্টে এসেছে বিশাল পরিবর্তন, যেরকমটি আপনারা লিক হওয়া ছবিতে দেখেছেন। তবে তাদের এবারের সেকেন্ডারি ক্যামেরাটি হালের আলট্রাওয়াইড লেন্স নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে আইফোন ১১ প্রো ও ১১ প্রো ম্যাক্স এ থাকছে একটি টারশিয়ারি টেলিফটো জুম ক্যামেরা। একই সাথে তাদের ফ্রন্ট ফ্রন্ট ক্যামেরাতেও এখন আলট্রাওয়াইড মোড যুক্ত করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রথম ফোন হিসেবে নতুন আইফোনগুলোতে থাকছে স্লো মোশন সেলফি ফিচার।


আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স স্পেসিফিকেশনঃ

  • ডিসপ্লেঃ ৬.৫ ইঞ্চি, সুপার রেটিনা ফুল এইচডি ডিসপ্লে, এইচডিআর১০ 
  • চিপসেটঃ অ্যাপল এ১৩ বায়োনিক 
  • স্টোরেজঃ ৬৪/২৫৬/৫১২ জিবি 
  • ক্যামেরাঃ ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ 
  • ১২ মেগাপিক্সেল রেগুলার লেন্স ২৬মিমি এফ১.৮ 
  • ১২ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্স ৫২ মিমি এফ২.০ 
  • ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড লেন্স ১৩ মিমি এফ২.৪ (১২০ ডিগ্রী) 
  • ১২ মেগাপিক্সেল ট্রুডেপথ সেলফি ক্যামেরা (স্লো মোশন) 
  • অন্যান্যঃ ওয়াইফাই ৬, ফেসআইডি, আইপি ৬৮ সার্টিফিকেশন, এনএফসি, ওয়ারলেস চার্জিং, স্পেশিয়াল অডিও। 
  • ওএসঃ আইওএস ১৩ 
  • মূল্যঃ ১০৯৯ ইউএস ডলার থেকে শুরু

আইফোন ১১ প্রো স্পেসিফিকেশনঃ

  • ডিসপ্লেঃ ৫.৮ ইঞ্চি, সুপার রেটিনা ফুল এইচডি ডিসপ্লে, এইচডিআর১০ 
  • চিপসেটঃ অ্যাপল এ১৩ বায়োনিক 
  •  স্টোরেজঃ ৬৪/২৫৬/৫১২ জিবি 
  •  ক্যামেরাঃ ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ 
  •  ১২ মেগাপিক্সেল রেগুলার লেন্স ২৬মিমি এফ১.৮ 
  • ১২ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্স ৫২ মিমি এফ২.০ 
  • ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড লেন্স ১৩ মিমি এফ২.৪ (১২০ ডিগ্রী) 
  • ১২ মেগাপিক্সেল ট্রুডেপথ সেলফি ক্যামেরা (স্লো মোশন) 
  • অন্যান্যঃ ওয়াইফাই ৬, ফেসআইডি, আইপি ৬৮ সার্টিফিকেশন, এনএফসি, ওয়ারলেস চার্জিং, স্পেশিয়াল অডিও। 
  •  ওএসঃ আইওএস ১৩ 
  •  মূল্যঃ ৯৯৯ ইউএস ডলার থেকে শুরু


আইফোন ১১ স্পেসিফিকেশনঃ

  • ডিসপ্লেঃ ৬.১ ইঞ্চি, লিকুইড রেটিনা এইচডি ডিসপ্লে, এইচডিআর১০ 
  • চিপসেটঃ অ্যাপল এ১৩ বায়োনিক 
  •  স্টোরেজঃ ৬৪/১২৮/২৫৬ জিবি 
  •  ক্যামেরাঃ ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ 
  •  ১২ মেগাপিক্সেল রেগুলার লেন্স ২৬মিমি এফ১.৮ 
  • ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড লেন্স ১৩ মিমি এফ২.৪ (১২০ ডিগ্রী) 
  • ১২ মেগাপিক্সেল ট্রুডেপথ সেলফি ক্যামেরা (স্লো মোশন) 
  • অন্যান্যঃ ওয়াইফাই ৬, ফেসআইডি, আইপি ৬৮ সার্টিফিকেশন, এনএফসি, ওয়ারলেস চার্জিং, স্পেশিয়াল অডিও। 
  •  ওএসঃ আইওএস ১৩ 
  •  মূল্যঃ ৬৯৯ ইউএস ডলার থেকে শুরু  

৬৪ মেগাপিক্সেল কোয়াড ক্যামেরা ও এমোলেড ডিসপ্লে নিয়ে এলো রিয়েলমি এক্সটি

মূলত ভারতের বাজারে শাওমির রেডমি ব্র্যান্ড এর সাথে পাল্লা দিতে রিয়েলমি ব্র্যান্ড সৃষ্টি করে অপো। আর তারপর থেকে রিয়েলমিকে আর পিছনে তাকাতে হয় নি। কিছুদিন পর পর নতুন নতুন সব চমক দেখিয়েই চলছে। অপো এর পারফর্মেন্স নিয়ে একসময় আমাদের দেশের মানুষদের নাক সিটকানো ভাব থাকলেও রিয়েলমি সম্পুর্নভাবে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। শাওমির মতো কম দামে সেরা স্পেসিফিকেশন দিতে রিয়েলমির জুড়ি নেই। বরং ইউআই তে এডভারটাইজমেন্ট নেই কিংবা ফাস্ট চার্জিংসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে সবাই রিয়েলমিকেই এগিয়ে রাখবে।


আর এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের বাজারে মাত্রই লঞ্চ হলো রিয়েলমি এর নতুন চমক রিয়েলমি এক্সটি। ৬৪ মেগাপিক্সেলের সেন্সর নিয়ে ফোনটি মূলত শাওমির নতুন রিলিজ পাওয়া রেডমি নোট ৮ প্রো এর সাথে লড়াই করতেই এসেছে। ফোনটির ডিজাইন গতাগতিক রিয়েলমি ফোনগুলোর মতোই। তবে এবারে প্লাস্টিক বডির পরিবর্তে গ্লাস বডি নিয়ে এসেছে ফোনটি।। আর এর পিছনের ক্যামেরা বাম্পে আছে চার চারটি ক্যামেরা সেন্সর। এর পূর্বসূরী রিয়েলমি এক্স পপ আপ ক্যামেরা ডিজাইন নিয়ে আসলেও এতে গতানুগতিক নচই থাকছে। অবশ্য ডিজাইনের দিক থেকে এসব ছোটখাট কাটছাঁট এর দাম কমাতে বেশ ভূমিকা রেখেছে।

মজার ব্যাপার হলো ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন এর দিক থেকে এটি আসলে আরেকটি রিয়েলমি ৫ প্রো ই বলা যায়। শুধু ক্যামেরার মেগাপিক্সেল আর বডি ম্যাটারিয়ালে একটু পরিবর্তন এসেছে।

রিয়েলমি এক্সটি এর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশনঃ

  • ডিসপ্লেঃ ৬.৪ ইঞ্চি, ফুল এইচডি প্লাস, এমোলেড ডিসপ্লে, গরিলা গ্লাস ৫।  
  • চিপসেটঃ কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৭১২  
  • র‍্যামঃ ৬/৮ জিবি 
  •  স্টোরেজঃ ৬৪/১২৮ জিবি (মাইক্রো এসডি ২৫৬ জিবি পর্যন্ত) 
  • ক্যামেরাঃ কোয়াড রিয়ার ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ 
  •  ৬৪ মেগাপিক্সেল স্যামসাং আইসোসেল জিডব্লিউ১ মেইন সেন্সর 
  • ৮ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড লেন্স (১২০ ডিগ্রী) 
  • ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো লেন্স 
  • ২ মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সর 
  • ১৬ মেগাপিক্সেল ওয়াটারড্রপ নচ সনি আইএমএক্স ৪৭১ সেলফি ক্যামেরা সেন্সর 
  •  অন্যান্যঃ টাইপ সি পোর্ট, ৩.৫ মিমি অডিও জ্যাক, গ্লাস বডি। 
  • ব্যাটারিঃ ৪০০০ মিলিএম্প, ভুক ৩.০ ফাস্ট চার্জ 
  •  ওএসঃ এন্ড্রয়েড ৯.০ পাই ভিত্তিক কালারওএস ৬ 
  •  মূল্যঃ ১৬০০০ রুপি (বাংলাদেশি টাকায় ১৯০০০ টাকা) থেকে শুরু  
এই সুবিদা গুলো এই বাজেটের মধ্যে কেমন হবে ফোনটি জানিয়ে দিন কমেন্ট করে।

আরো দ্রুত ডেটা ট্রান্সফারের সক্ষমতা নিয়ে এলো ওয়াইফাই ৬

অয়াইফাই এলায়েন্স নামক ফাউন্ডেশন যেটি ওয়াইফাই প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করে থাকে সেটি আজই তাদের ওয়াইফাই প্রযুক্তির পরবর্তী প্রজন্ম ওয়াইফাই ৬ এর ঘোষণা দিয়েছে। একটি ব্লগ পোস্ট এর মাধ্যমে তারা তাদের ওয়েবসাইটে ওয়াইফাই সার্টিফায়েড ৬ নামক এক নতুন প্রোগ্রাম এর ঘোষণা দেয়। তাদের এই ঘোষণার মাধ্যমে এখন থেকেই বিভিন্ন কোম্পানি তাদের স্মার্ট ডিভাইস, রাউটারসহ ওয়াইফাই সাপোর্টেড ডিভাইসগুলোকে ওয়াইফাই ৬ সাপোর্টেড হিসেবে ব্র্যান্ডিং করতে পারবে।

নতুন এই ওয়াইফাই ভার্সনটি আইইইই ৮০২.১১এএক্স স্ট্যান্ডার্ড এর উপর ভিত্তি করে ডেভেলপ করা যা বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত আইইইই ৮০২.১১এসি এর উত্তরসূরি। ওয়াইফাই এলায়েন্স এর মতে নতুন এই প্রযুক্তিতে প্রত্যেকটি কানেক্টেড ডিভাইস যেন অত্যানুকূল অবস্থায় কাজ করতে পারে সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাছাড়া ওয়াইফাই এর এই ভার্সনে তারা সিক্যুরিটির উপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে।

ওয়াইফাই ৬ এর সবচেয়ে বড় তিনটি ফিচার হলোঃ

  • ১। উচ্চগতির ডেটা প্রবাহ, যা ব্রাউজিং ও ডাউনলোডিং কে আর দ্রুত করবে।  
  • ২। নিম্ন ল্যাটেন্সি, যার ফলে অনলাইন গেমিং কিংবা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এক্সপেরিয়েন্স আরো চমকপ্রদ হবে। 
  •  ৩। সেই সাথে কম বিদ্যুৎ খরচ যার মাধ্যমে আইওটি কিংবা পরিধেয় স্মার্ট ডিভাইসের আরো উন্নয়ন সাধিত হবে।
ওয়াইফাই ৬ এর অফিশিয়াল ঘোষণা আজ আসলেও মূলত এ বছরের কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক শো তেই নতুন এ প্রযুক্তির প্রাথমিক ঘোষণা দিয়েছিল তারা। ইতিমধ্যে আইফোন ১১ সিরিজ সহ লেটেস্ট ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো ওয়াইফাই ৬ সাপোর্টেড চিপ নিয়ে বাজারে এসেছে। অদূরেই হয়তো সব রেঞ্জ এর ডিভাইসে এই প্রযুক্তির দেখা মিলবে।  

ভিভোর বাটনবিহীন ৫জি ফোন নেক্স ৩

চাইনিজ জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ভিভোর নেক্স সিরিজটি মূলত তাদের ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ। তবে অন্য ফ্ল্যাগশিপ সিরিজের সাথে এর পার্থক্য হলো নেক্স সিরিজে তারা বরাবরই বিভিন্ন নতুন ইনোভেশন ও এক্সপেরিমেন্টাল ফিচার নিয়ে আসে। তাদের এই নেক্স সিরিজের লেটেস্ট ফোন নেক্স ৩ এর ঘোষণা দিলো তারা চীনের বাজারে।

নতুন এই ফ্ল্যাগশিপটি ডিজাইনের দিক থেকে বরাবরের মতোই অনন্য। এতে আছে কার্ভড বেজেলবিহীন ডিসপ্লে যার নাম দিয়েছে তারা ওয়াটারফল ডিসপ্লে। ডিসপ্লেটি স্যামসাং এর গ্যালাক্সি এস সিরিজের চেয়েও বেশি কার্ভড। আর এই কারণে ফোনটির স্ক্রিন টু বডি রেশিও এসে দাঁড়িয়েছে ৯৯.৬ ভাগে, যা কোন স্মার্টফোনের জন্য সর্বোচ্চ।

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এতে অনাকাঙ্ক্ষিত টাচ রোধের জন্য রয়েছে এক্সিডেন্টাল টাচ প্রোটেকশন ৪.০ নামের ফিচার। এতে কোন ফিজিক্যাল বাটন থাকছে না। এমনকি পাওয়ার বাটনও না। তার পরিবর্তে টাচ সেন্স নামক একটি প্রযুক্তি রয়েছে যা মূলত একটি লুকানো পাওয়ার বাটন। এটি টাচ এর উপর ভিত্তি করে পাওয়ার বাটনের কাজ করবে।

স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ প্লাস প্রসেসর, কোয়ালকম এক্স৫০ ৫জি মডেম ও সাথে ৬৪ মেগাপিক্সেল ট্রিপল ক্যামেরা নিয়ে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপগুলোর সাথে বেশ ভালোই পাল্লা দিতে সক্ষম এটি। বরং এর ডিজাইন ও লুক নিয়ে এটি এগিয়েই থাকবে।

ভিভো নেক্স ৩ এর স্পেসিফিকেশনঃ

  • ডিসপ্লেঃ ৬.৮৯ ইঞ্চি, ফুল এইচডি প্লাস, ওয়াটারফল সুপার এমোলেড ডিসপ্লে, ৯৯.৬ ভাগ স্ক্রিন টু বডি রেশিও, এইচডিআর ১০। 
  •  চিপসেটঃ কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ প্লাস 
  •  র‍্যামঃ ৮/১২ জিবি 
  •  স্টোরেজঃ ২৫৬ জিবি (ইউএফএস ৩.০) 
  •  ক্যামেরাঃ ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ 
  •  ৬৪ মেগাপিক্সেল স্যামসাং আইসোসেল জিডব্লিউ১ মেইন সেন্সর 
  • ১৩ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড লেন্স (১২০ ডিগ্রী) 
  • ১৩ মেগাপিক্সেল টেলিফটো 
  • ১৬ মেগাপিক্সেল পপআপ সেলফি ক্যামেরা ও এলইডি ফ্ল্যাশ 
  • অন্যান্যঃ বাটনবিহীন ডিজাইন, ৫জি সাপোর্ট। 
  •  ব্যাটারিঃ ৪৫০০ মিলিএম্প, ৪৪ ওয়াট ফাস্ট চার্জ 
  •  ওএসঃ এন্ড্রয়েড ৯.০ পাই ভিত্তিক ফানটাচ ওএস ৯.১ 
  • মূল্যঃ ৫৭০০ ইউয়ান (৬৮০০০ টাকা) থেকে শুরু  
সকল তথ্য জেনে ফোনটি আপনার কাছে কেমন লাগলো জানিয়ে দিন কমেন্ট করে। 

 

প্রফেশনাল লেভেলের ক্যামেরা নিয়ে এলো হুয়াওয়ে মেট ৩০ প্রো ফোন

হুয়াওয়ের ফ্ল্যাগশিপ মেট সিরিজ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেয়। আজকে জার্মানির মিউনিখে এক ইভেন্টে তাদের মেট সিরিজের লেটেস্ট সংযোজন মেট ৩০ প্রো এর ঘোষণা দিলো হুয়াওয়ে। অবশ্য ফোনটির ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন বিভিন্ন লিক এর কল্যাণে অনুমেয়ই ছিল। তার পরেও বলতেই হচ্ছে হুয়াওয়ের সব উদ্ভাবন আর পরিশ্রম যেন ঢেলে দিয়েছে তারা ফোনটিতে।
ফোনটির সবচেয়ে বড় দিকই হচ্ছে এটার ক্যামেরা। বিভিন্ন কোম্পানি তাদের ফ্ল্যাগশিপ ফোনের ক্যামেরাকে বরাবরই প্রফেশনাল ক্যামেরার সাথে তুলনা করে আসছে। তবে এবারে হুয়াওয়ে যেন সত্যিই এক প্রফেশনাল ক্যামেরা নিয়ে এলো। বাস্তবে এখনো পরীক্ষা না করা হলেও অন্তত কাগজে কলমে এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী স্মার্টফোন ক্যামেরা কনফিগারেশন।

এতে থাকছে দুটি ৪০ মেগাপিক্সেল সেন্সর ও আরেকটি ৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো সেন্সর। তাদের দ্বিতীয় ৪০ মেগাপিক্সেল সেন্সরটি তাদের সুপার সেন্সিং টেকনোলজি সমৃদ্ধ যাকে তারা বলছে পৃথিবীর প্রথম সিনে লেন্স যা স্মার্টফোনে অবস্থান করছে। এর সাহায্যে নাকি প্রফেশনাল লেভেল এর ভিডিও করা যাবে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ছবি ও ভিডিও মোডের আইএসও সেন্সিটিভিটি যথাক্রমে ৪০৯৬০০ এবং ৫১২০০ যা স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। এমনকি ডিএসএলআর কিংবা মিররলেস ক্যামেরাতেও এত সংবেদনশীলতা বিরল।

ফোনটি ৭৬৮০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে স্লো মোশন ভিডিও করতে পারে যা শুধু প্রফেশনাল ক্যামেরাগুলোতেই সম্ভব। এর সিনে ক্যামেরাটি দিয়ে ডিএসএলআর ক্যামেরা মতো ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করা ভিডিও করা যাবে যা সত্যিই অসাধারন একটি ফিচার।

আকর্ষণীয় ক্যামেরার সাথে ফোনটির ডিজাইন ও অনন্য। এতে আছে ওয়াটারফল ডিসপ্লে যা আপনারা ভিভো নেক্স ৩ তে দেখেছেন। তার মানে এতে কার্ভড ডিসপ্লের সাথে কোন ফিজিক্যাল বাটন থাকছে না। বরং এর ডিসপ্লের কার্ভড অংশটিই প্রেশার সেনসিটিভ বাটন হিসেবে কাজ করে।

এতে আপনি ইচ্ছামত সুবিধাজনক পজিশনে পাওয়ার বাটন, ভলিউম বাটন, ক্যামেরা বাটন ইত্যাদি ম্যাপ করে দিতে পারবেন। এত সুন্দর ডিজাইনের মাঝেও এতে থাকা বিশালাকার নচটি হয়তো অনেকের কাছেই বিরক্তিকর মনে হতে পারে। তবে হুয়াওয়ে বলছে এর নচটি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে “কমপ্লিকেটেড নচ”। এতে থাকা থ্রিডি সেন্সর দিয়ে এটি আপনার হাতের জেশ্চার অনুযায়ী কাজ করতে পারবে।

তবে অনেকের কাছে হতাশার কারণ হতে পারে যে কারণটি সেটি হলো এতে কোন গুগল সার্ভিস থাকছে না। তবে এটি এন্ড্রয়েড ভিত্তিক ইএমইউআই ১০ এই চলবে। বরং এতে গুগল সার্ভিস এর বদলে হুয়াওয়ের সার্ভিস ইন্সটল করা থাকবে। অবশ্য এ ব্যাপারে তারা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল।

হুয়াওয়ে মেট ৩০ প্রো এর স্পেসিফিকেশনঃ

  • ডিসপ্লেঃ ৬.৫৩ ইঞ্চি, ফুল এইচডি প্লাস, ফ্লেক্স ওলেড হরাইজন ডিসপ্লে, এইচডিআর ১০। 
  • চিপসেটঃ হুয়াওয়ে কিরিন ৯৯০ 
  • র‍্যামঃ ৮ জিবি 
  • স্টোরেজঃ ২৫৬ জিবি 
  • ক্যামেরাঃ ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ 
  • ৪০ মেগাপিক্সেল সনি আইএমএক্স ৬০০ মেইন সেন্সর 
  • ৪০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড সুপার সেন্সিং সিনে লেন্স 
  • ৮ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্স (৪৫এক্স জুম) টাইম অব ফ্লাইট সেন্সর 
  • ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা 
  • অন্যান্যঃ বাটনবিহীন ডিজাইন, ৫জি সাপোর্ট, জেশ্চার সাপোর্ট, বোকেহ ভিডিও 
  • ব্যাটারিঃ ৪৫০০ মিলিএম্প, ২৭ ওয়াট ফাস্ট চার্জ 
  • ওএসঃ এন্ড্রয়েড ৯.০ পাই ভিত্তিক ইএমইউআই ১০ 
  • মূল্যঃ ১০৯৯ ইউরো (১০০০০০ টাকা) থেকে শুরু